'দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা মাস্টারমাইন্ড উপদেষ্টা মাহফুজ আলম'
সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আমাকে বলেছিলো, সব দুর্নীতি আসিফ আর নাহিদ করেছে। সে কোনো দুর্নীতি করে নাই। সে তার একটা লিখাতেও স্পষ্ট লিখেছে, একটা সার্কেলের সবাই দুর্নীতিবাজ আর উনি কোনো টাকা ছুয়েও দেখছেন না। খোলামেলা আলোচনায় মাহফুজ ও তার ভাই মাহবুব আমাকে বলেছে, আসিফ হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে, নাহিদও করেছে। কিন্ত মাহফুজ ভাই নাকি গভেষনা ছাড়া কিছু করে না, এসবের সময় তার নাই!
আমি কিছুদিন আগে মাহফুজকে তার ভাই মাহবুবের দুর্নীতির সকল প্রমাণ সহ দিলাম৷ স্পষ্ট কথা শুনা যাচ্ছে মাহবুবের, টাকা পয়সার লেনদেন করতেছে। মাহফুজ আমার কল কেটে দিয়ে মেসেজ দিলেন, “ভাই একটা মিটিং এ আছি, কালকে কথা বলি।” মাহফুজের সেই কালকে এই ইহজনমে হয়তো হবে না।
আমি এনসিপির নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান তত্বাবধায়ক থাকার সময়ে মাহবুব আমাকে কমিটি করতে প্রচন্ড বাধা দিয়েছে। শিবির বলে সবাইকে মাইনাস করতে চেয়েছে। কিন্ত মাইনাস করেও নতুন কোনো লোক দেয় নাই। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, এই ৩ জেলায় এনসিপি ধ্বংস হওয়ার সকল ক্রেডিট উপদেষ্টা মাহফুজ এবং তার ভাই মাহবুবের। ফেনী জেলা ধ্বংস করার পিছনে আছে সাবেক শিবির, বর্তমান অতি বাম সাজা সালেহ উদ্দিন সিফাত আর নোয়াখালী জেলা ধ্বংস করেছে নফিউল আর সুলতান জাকারিয়া। এরা সবাই আবার মাহফুজ ভাইয়ের শিষ্য, মাহফুজের মন্ত্রীপাড়ার সরকারি বাসায় গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তাদের আড্ডা চলে।
আমি এদের বেয়াদপিতে বিরক্ত হয়ে মাহফুজের বাসায় গেলাম। ২ ঘন্টা অপেক্ষা করানোর পর মাহফুজ আমাকে তার রুমে ডাকলেন। বললেন, মুনতাসির ভাই আপনি নোয়াখালী অঞ্চলটা আমার হাতে ছেড়ে দেন, এটা আমি দেখবো। আর কাজী তানভীরকে নোয়াখালী কমিটিতে রাইখেন না। ছেলেটা আমাকে গালি দিছে।”
উল্লেখ্য, উপদেষ্টা মাহফুজ তার একটা পোস্টে শিবিরকে জিল্লতির জীবন দেয়ার হুমকি দিয়েছিলো। সেই পোস্টে এনসিপির নোয়াখালীর সংগঠক কাজী তানভীর কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করেছিলো। সেজন্য তাকে নোয়াখালী কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে, সরাসরি মাহফুজ ভাইয়ের নির্দেশ।
আমি সেই নির্দেশের উপর প্রস্রাব করে দিলাম।
আমি বললাম, কাজী তানভীরকে আপনার সাথে বসিয়ে দেই। আলাপ করে মিটিয়ে ফেলেন। মাহফুজ বলে, আমার এত সময় নাই। আমি বললাম, সময় না থাকলে আপনি নোয়াখালী অঞ্চল কেমনে দেখবেন? এটার দায়িত্ব তো আমার। আপনার ভাই মাহবুবের জন্য আমি কমিটি দিতে পারছি না!
মাহফুজ বললো, ভাইয়া আসুক, আমরা একসাথে বসে আলোচনা করবো।
মাহবুব তখন চায়নাতে৷ হয়তো দুর্নীতির টাকা পাচার করতে গিয়েছিলো। লক্ষ্মীপুরের ৪টা উপজেলার কমিটি রেডি। আমি আমাদের গ্রুপে ফাইনাল করার জন্য দিলাম। চিন থেকে মাহবুবের কল। মুনতাসির ভাই, কোনো কমিটি দেয়া যাবে না। এখানে সব শিবির। আমি এসে কমিটি দিবো।
আমি বললাম, এখানে ৩০ বছর বাম রাজনীতি করা সিনিয়র একজনকে আহবায়ক প্রস্তাব করেছি জেলার জন্য, আরো বহু মতের লোক আছে, সব শিবির কেমনে হয়?
মাহবুব কোনো কথা শুনতে রাজি না৷ সব নাকি শিবির। আমি বললাম, ঠিক আছে সব বাদ৷ তাহলে আপনি দেন। কিন্ত দলের নিবন্ধনের কাজ চলছে। আমাকে ২ দিনের মধ্যে কমিটি গুলা দিতে হবে৷ ২০০ সমর্থক সহ সব লিস্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। এই দায়িত্ব তাহলে আপনার।
মাহবুব এরপরে ১০ দিন পর্যন্ত দেশেই আসে নাই। চিন থেকে আরো কোথায় কোথায় টাকা পাচার করেছে সেই জানে। এরমধ্যে দলের নিবন্ধনের জন্য সব কাগজ জমা দেয়া হয়ে গেছে। সবাই দিন রাত পরিশ্রম করেছে। সারাদেশের নেতাকর্মীরা কাজ করেছে। আর উপদেষ্টা মাহফুজের ভাই, এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম দেশেই ছিলো না।
আমি বারবার মাহফুজ আলমের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছি। নোয়াখালী অঞ্চলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের চরম অসহযোগিতার সমাধান চেয়েছি। মাহফুজের এক কথা, ভাইয়া আসুক, একসাথে বসবো। আজ নয় কাল৷ কাল নয় তাল। সেই কাল কখনো হয়নি।
মাহফুজ আলম আমাকে ফেসবুকে ব্লক করেছে দেখলাম। তার ভাইয়ের সব অপকর্মের প্রমাণ দেয়ার পরে সেটা দেখেই ব্লক করেছে। যেদিন রাতে সে বললো, ভাই মিটিং এ আছি, কাল কথা বলবো। তার পরের দিন ব্লক করেছে। আপনারা আমাকে বলেন, এই মাহফুজ আলম সৎ? সে কোনো দুর্নীতি করেনি? মাহফুজ দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা??
~ মুনতাসির মাহমুদ
সংসদ সদস্য প্রার্থী, ঢাকা ১২।
আহবায়ক, তৃণমূল এনসিপি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: